মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০২:২৩ অপরাহ্ন

অবৈধ দখলে অস্তিত্ব সংকটে বিশ্বম্ভরপুরের ধামালিয়া নদী

অবৈধ দখলে অস্তিত্ব সংকটে বিশ্বম্ভরপুরের ধামালিয়া নদী

ছবি: আমাদের সুনামগঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক:: সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধামালিয়া নদী দখল কওে নদীর দুই পাড়ে প্রায় ৫শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। অবৈধ দখলদারদের দখলে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে এক সময়ের স্রোতবাহী এই নদীটি। বছরের প্রতিটি দিন বহমান শ্রোত ধরে রাখা নদীটি আজ কালের সাক্ষীতে পরিণত হয়েছে। ফলে ওই নদীর আশ পাশের জমির সেচ ও পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন স্থানে নদীটি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে নদীর আকার। অনেকে নিজের জায়গা মনে করে আবার মাটি ফেলে ভরাট করে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থায়ী স্থাপনা তৈরি করছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খনন করে নদীটি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাশ্ববর্তি দেশ ভারতের মেঘালয়ের বালাট থেকে সুনামগঞ্জের বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার চিনাকান্দি মেরুয়াখলা, মুক্তিখলা হয়ে ঘটঘটিয়া নদীতে মিশেছে ধামালিয়া নদী। নদীর বুকে অবৈভাবে প্রায় ৫শতাধিক ঘরবাড়ি নির্মিত হয়েছে। পুরো নদীটি খনন করলে রাজাপাড়া, লক্ষীরপাড়, ধনপুর, ইসলামপুর, চিনাকান্দি, পলাশ, মুক্তিখলা, মেরুয়াখলা, সুরেশ নগর, কারেন্টের বাজারসহ প্রায় ২০টি গ্রামের কৃষকদের জমির সেচ ও পানি নিষ্কাশনে সমস্যা নিরসন হবে। অন্যদিকে স্থানীয় লোকজনের মাছের চাহিদা পূরণ হবে এ নদী থেকে। দখলের কারণে একদিকে যেমন জমির সেচ সংকট দেখা দিয়েছে অন্য দিকে বর্ষকালে কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। নদীর দুপাড়ে বহু দোকানঘর ও অবৈধ স্থাপনা নদী দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে। দখলের কারণে নদীটি হারিয়ে যেতে বসেছে।

লক্ষিরপাড় গ্রামের কৃষক আবু মিয়া(৭০) বলেন, উৎপত্তি স্থল হতে শেষ মাথা পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে অবৈধ স্থাপনা তৈরি হওয়ায় নদীর মালিকানা এখন দখলদারদের কবলে হারিয়ে যেতে বসেছে। ধামালিয়া আর নদীরুপে চেনাই যায়না, শুকিয়ে মরা খাল হয়ে গেছে। আগের ধামালিয়া আর এখনকার ধামালিয়ার মধ্যে আসমান জমিন তফাৎ। মনে হচ্ছে দখলদাররা তাদের বাড়ীর নোংড়া পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন তৈরি করেছে। পানি প্রবাহ না থাকায় যেটুকু আছে সেটাও আজ হারিয়ে যেতে বসেছে মানচিত্র থেকে। এতে করে পরিবেশ যেমন দূষিত হচ্ছে তেমনি আগামী প্রজন্মের কাছ থেকে ধামালিয়া নদীর নামটিও মুছে যেতে বসেছে ইতিহাসের পাতা থেকে। এ নদীকে প্রভাবশালী, ক্ষমতাবানরা গ্রাস করে নির্মাণ করেছে, দেয়াল, দোকানঘর, বাড়ীসহ বিভিন্ন স্থাপনা, আর ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য অবশিষ্ট অংশটুকু রেখেছে। সবখানে দেখা যাচ্ছে শুধু দখলের চিহ্ন।

চিনাকান্দি গ্রামের কৃষক হানিফ মিয়া বলেন, দখলের ব্যাপারে খোঁজখবর রাখে না প্রশাসন। অনেক সময় দেখা যায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকালে প্রশাসন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়, আবার কিছুদিন গেলে কাজ শুরু করার অনুমতিও দেয় প্রশাসন। এতো করে সহজেই বুঝা যায় প্রশাসনের সাথে দখলদারদের গোপন আঁতাত আছে। এ কারণে নদীটিতে দিন দিন দখলদারের সংখ্যা বাড়ছে।

রাজঘাট গ্রামের কৃষক আব্দুল হক বলেন, ধামালিয়া নদী যদি খনন করে আগের মতো তার গতিপথ তৈরী করা হয় তাহলে এলাকার কৃষকদের অনেক উপকার হবে। একদিকে জমির সেচের সংকট দূর হবে অন্যদিকে মালামাল পরিবহন করা যাবে নৌকাযোগে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধনপুর বাজার ও চিনাকান্দি বাজার এলাকায় খাল দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মরম আলী, শাহ জাহান, আজিজ, হাবিব মিয়া, হাছু মিয়া, নবী হোসেনসহ অনেকেই। তারা প্রত্যেকেই দাবি করেন, নদীর জায়গা দখল করে নয়, তাঁরা নিজেদের জায়গাতেই স্থাপনা করেছেন।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন, আমাদের জেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশনা আছে অবৈধ নদী দখলদাররের উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে। আমরা অবৈধ নদী দখলদারদের তালিকা করেছি, খুব শীঘ্রই আমাদের সহকারি কমিশনার ভূমি এবিষয়ে অভিযান পরিচালনা করবেন।

শেয়ার করুন




 

 

 

 

© 2017-2022 All Rights Reserved Amadersunamganj.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!