বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:০০ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
বেলটা সিলেট চ্যাপ্টার এর কার্যনির্বাহী কমিটির সভা: ইংরেজি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার  বিশ্বম্ভরপুরে কোভিড সংক্রমণের ঝুঁকি রোধে গণসচেতনতা মূলক প্রচারণা পলাশ ইউপিকে নাগরিক সমস্যা মুক্ত হিসেবে গড়ে তুলবো- নুরুল আলম সিদ্দিকী মধ্যনগর মহিলা সমবায় সমিতির কার্যালয় সাবেক সভাপতির দখলে বাংলাদেশ ইংলিশ ল্যাংঙ্গুয়েজ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বেলটা) কমিটি ঘোষণা বিশ্বম্ভরপুরে হাঁস মুরগি পালন প্রশিক্ষণ বাদাঘাট(দঃ) ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী জামাল হোসেনের নির্বাচনী ইশতেহার বাদাঘাট (দঃ) ইউপিকে নাগরিক সমস্যা মুক্ত হিসেবে গড়ে তুলবো- জামাল হোসেন প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ বিশ্বম্ভরপুরে আউশ ধানের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
বিশ্বম্ভরপুরে আউশ ধানের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

বিশ্বম্ভরপুরে আউশ ধানের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

জাকির হোসেন রাজু:: কৃষি নির্ভর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফসলের মাঠে শুরু হয়েছে আউশ ধান কাটার উৎসব। উপজেলার ধনপুর, সলুকাবাদ ও পলাশ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
গতকাল উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও ধানগাছ থেকে শীষ বের হচ্ছে। আবার কোথাও ধান পাকতে শুরু করেছে। কোথাও আবার আউশ চাষিরা ধান কাটা, ধানের আঁটি বাঁধা এবং ধান মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত। বৃষ্টিতে ধান ভিজে যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য অনেক কৃষক খেতের পাশে উঁচু জায়গায় ধান মাড়াইয়ের কাজ করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৩২শ হেক্টর জমিতে আউশ ধান আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা হলেও আবাদ করা হয় ৩২শ ৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৬হাজার ৩শত ৩৯ মেক্ট্রিক টন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে বলে আশাবাদী কৃষি অফিস।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ উপজেলার কৃষকরা আউশ মৌসুমে স্থানীয় জাতের বীজ আবাদ করতেন। এ জাতের আউশ ধানের ফলন খুবই কম হওয়ায় কৃষকরা আউশ ধান আবাদে দিনে দিনে আগ্রহ হারাচ্ছিলেন। চলিত মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ নিয়ে অনেক কৃষকই উন্নত জাতের বীজ রোপন করেছেন। ফলে আউশের বাম্পার ফলন হওয়ায় আউশ চাষে কৃষকরা আগামীতে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হবেন বলে আশা করছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অতীতের মতো স্থানীয় জাত ও উন্নত জাতের আউশ ধান বীজ অনেক কৃষকেরা চাষা করেছেন। ধান বীজগুলো কাজল আইল, চিনালধান, ভিন্নাতোয়া, ধলবাচাই, বৈলাম, আশ্বিনী, নাজির আইল, জিইস ধান ও পাইজম ধান ইত্যাদি। অন্যদিকে উন্নত জাতের মধ্যে সরকারি ধান বিএডিসি, বেসরকারি বীজ কোম্পানির মধ্যে সুপ্রিম সীড কোম্পানি, লালতীর, মল্লিকা সীড, এসিআই, অটো ক্রপকেয়ারের বীজ উল্লেখযোগ্য। বিধান ৪৮, বিধান ৮২, বিনাধান ১৯, বি-২৮, বি-৪৩, বি-৭২ নং ধানের বীজগুলো ভালো ফলন দিয়েছে। মূলত হাইব্রিড ধান বীজ যে কোন মৌসুমে ভালো ফলন দিয়ে থাকে বলে কৃষকরা জানান।
উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামের কৃষক মো. সাইদুর রহমান বলেন, আমাদের বাপ-দাদাদের আমল থেকে আমরা আমাদের চাষের জমি থেকে ধান বীজ সংগ্রহ করে সাধারণ চাষাবাদ করতাম। এতে সমস্যা হলো বিভিন্ন ধরনের মিশ্রিত ধান হতো এবং ফসলও কম হতো। চলতি মৌসুমে কৃষি অফিসে সহযোগিতায়  ৪একর জমিতে ব্রি ধান- ৪৮ চাষ করেছি। উন্নতমানের হাইব্রিড ধান বীজ সংগ্রহ করে রোপন করার ফলে ভালো ফলন ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছি।
ধনপুর ইউনিয়নের লক্ষীরপাড় গ্রামের কৃষক মো. রাসেল মিয়া বলেন, সাধারণ আউশ ধান করতে আমাদের ক্ষেতে ব্যাপক সার, কীটনাশক, পরিশ্রম ও অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়। সে তুলনায় তেমন ফসল ঘরে তুলতে পারা যায় না। কিন্তু ব্রি ধান-৪৮ জাতের আউশ ধান বা উন্নত জাতের আউশ ধানের ক্ষেতে খুবই কম পরিমাণ সার, কীটনাশক ব্যবহার হয়। এতে তেমন পরিশ্রম হয় না। এছাড়াও অনেক কম খরচে অধিক ফসল পাওয়া যায়।
ধনপুর ইউনিয়নের স্বরুপগঞ্জ গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, চলতি মৌসুমে কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ৩৩শতক জমিতে ব্রি ধান-৮২ রোপা আউশ চাষ করেছি। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নয়ন মিয়া(ভারপ্রাপ্ত) বলেন, এই উপজেলার কৃষকরা পূর্বে স্থানীয় আউশ ধানের আবাদ করতেন। এই বছর সরকার কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও বীজ, সার দিয়ে চাষীদের উৎসাহিত ও সহযোগিতা করেছে। এতে কৃষকেরা উৎসাহিত হয়ে ব্যাপক চাষ করেছেন এবং বাম্পার ফলন হয়েছে।

শেয়ার করুন




 

 

 

 

© 2017-2021 All Rights Reserved Amadersunamganj.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!