মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
সোনাপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে এম.পি মানিককে সংবর্ধনা শিক্ষক নিবন্ধনের জাল সনদে ১০ বছর ধরে চাকরি! প্রকাশিত হয়েছে তরুণ লেখিকা হাসিনা হাসি’র উপন্যাস ‘গহীনে শব্দ’ যাদুকাটা নদী থেকে বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ: বছরজুড়ে বেকার লক্ষাধিক শ্রমিক আসছে তরুণ লেখক জাকির হোসেন রাজু’র বই ‘না ছুঁয়ে তোমাকে ছোঁব’ কবিতা : কলম সৈনিক : আমিনুল ইসলাম সিলেট বিভাগীয় বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এড. আবুল হোসেন বিশ্বম্ভরপুরে শ্রমিক লীগের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ শাখা যাদুকাটা নদীর ভাঙ্গন: বিলিনের পথে বাগগাঁও-ডালারপাড় গ্রাম বাদাঘাট (দঃ) ইউপি নির্বাচন: আ’লীগের মনোনয়ন চান জামাল হোসেন
যাদুকাটা নদী থেকে বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ: বছরজুড়ে বেকার লক্ষাধিক শ্রমিক

যাদুকাটা নদী থেকে বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ: বছরজুড়ে বেকার লক্ষাধিক শ্রমিক

ছবি: সংগৃহিত

জাকির হোসেন রাজু:: সুনামগঞ্জের তহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক। নদী ভিত্তিক ওই এলাকার মানুষ গুলোর আয়-রোজগার না থাকায় বালু-পাথর শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
বালু পাথর শ্রমিকরা জানান, যাদুকাটা নদীতে মেঘালয় পাহাড় থেকে ঢলের পানিতে নেমে আসা বালু-পাথর উত্তোলন ও পরিবহন করে তিনটি উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করেন। সরকার গতবছর যাদুকাটা নদীর ফাজিলপুর বাল-পাথর মহাল ইজারা না দিয়ে নদী থেকে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। এ কারণে নদী তীরের অর্ধশতাধিক ক্রাশার মিলের শ্রমিক, নৌযান শ্রমিক ও বালু পাথর ব্যবসায়ীদের আয়-রোজগার বন্ধ রয়েছে। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর দিনযাপন করছেন তারা।

তাহিরপুর উপজেলার বিন্নাকুলির বাসিন্দা শ্রমিক রুবেল মিয়া বলেন, গত এক বছর যাবত নদী থেকে বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। যার কারণে আমরা শ্রমিকরা বেকারভাবে দিন পার করছি। রোজি না থাকার কারণে এক রকম অনাহারেই দিনাতিপাত করছি। নদী যখন খোলা ছিল তখন কাজ করে পরিবারের মুখে দুমুটো ভাত তুলে দিতে পারতাম। গত এক বছর যাবত নদী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে স্ত্রী-সন্ত্রান নিয়ে চলা খুব কষ্ট হচ্ছে। সরকার যদি নদীটা খুলে দিতো তাহলে আমাদের কষ্ট দূর হতো।

তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা শ্রমিক আসাদ মিয়া বলেন, নদী বন্ধ থাকার কারণে পরিবার নিয়ে চলা খুবই কষ্টে আছি, এভাবে নদী বন্ধ থাকলে না পরিবার নিয়ে খেয়ে মারা যাবো আমরা।

শ্রমিক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দস সাত্তার আজাদ বলেন, একটি বছর ধরে নদী থেকে বালু পাথর উত্তোলন করা বন্ধ রয়েছে। নদীতে মানুষের কর্মসংস্থান নেই, তাই এখানকার শ্রমিকরা দেশের বিভিন্ন জায়গাতে কাজ করতে যাচ্ছে। রোজি রোজগার না থাকায় এখানকার মানুষ খুব কষ্টে জীবন যাপন পার করছে। নদী থেকে বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও আছেন বেকায়দায়। শ্রমিকদের স্বার্থে সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই এই নদীটি দ্রুত যেন খুলে দেওয়া হয়। তাহিরপুর উপজেলার লাউড়ের গড়ের বাসিন্দা বালু পাথর ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন বলেন, নদী বন্ধ থাকার ফলে আমরা ব্যবসায়ীরা খুব সমস্যায় আছি। ঢাকায় পার্টির কাছে অনেক টাকা পড়ে আছে, তাদেরকে বালু পাথর দিতে পারছি না বলে বাকি টাকাও পাচ্ছি না। সরকারের কাছে আবেদন এই নদীটি যতো দ্রুত সম্ভব খুলে দেওয়া হোক।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাগগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বালু পাথর ব্যবসায়ী বজলু মিয়া বলেন, গত এক বছর যাবত নদী থেকে বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। নদী বন্ধ থাকার ফলে একদিকে যেমন আমরা ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে অন্যদিকে লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। ব্যবসা বন্ধ থাকার ফলে সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের ব্যবসায়ীদের দাবি যাদুকাটা নদী থেকে বালু পাথর উত্তোলন করা দ্রুত উন্মুক্ত করা হোক।  তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ জানান, নদী থেকে বাল পাথর উত্তোলনের অনুমোদন দেবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়। আমাদের এখানে কোন এখতিয়ার নেই। যতোদিন পর্যন্ত বালু মহাল ইজারা না হবে ততোদিন আমরা বালু উত্তোলন করতে দেব না।

শেয়ার করুন




 

 

 

 

© 2017-2020 All Rights Reserved Amadersunamganj.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!