সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
নারায়নতলায় একটি সেতুর অভাবে ১৫ গ্রামবাসীর ভোগান্তি

নারায়নতলায় একটি সেতুর অভাবে ১৫ গ্রামবাসীর ভোগান্তি

ছবি : আমাদের সুনামগঞ্জ

জাকির হোসেন রাজু:: ধলাই খালের উপর একটি সেতুর অভাবে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন ও পাশের রংগারচর ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের ভোগান্তিা যেন শেষ নেই। একটি সেতুর অভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থা। শুষ্ক মৌসুমে কোনও মতে পারাপার হওয়া গেলেও বর্ষা মৌসুমে তা মোটেও সম্ভব হয়না। এতে ওই দুটি ইউনিয়নের প্রায় ৭হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। খাল পার হতে গেলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হন পথচারিরা।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে ধলাই খালের ওপর সেতু নিমার্ণ করা হয়। ২০১১ সালের বন্যায় সেতুটির আংশিক অংশ ভেঙ্গে যায়। পরে বাশেঁর সাঁকোতে জোড়াতালি দিয়ে পারাপার হতে থাকেন এলাকাবাসী। এরপর ২০১৭ সালের বন্যায় সেতুটি পুরোপুরি ভেঙ্গে যায়। সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকে এলাকাবাসী পুরো সেতুর উপর বাশেঁর সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন, কিন্তু বাশেঁর সাঁকো হওয়ার কারণে মোটর সাইকেল বা কোন প্রকার যান বাহন চলতে পারে না। স্থানীয়রা বলেন, সেতু না থাকায় সদর উপজেলার ঐতহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নারায়নতলা মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পাশের বিজিব ক্যাম্প, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নসহ সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে এলাকাটি।

ভৈরব হাটি গ্রামের বাসিন্দা হাজী সাদেক মিয়া বলেন, এই সেতুর জন্য আমাদের খুব কষ্ট করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সেতুর ওপর বাঁেশর সাঁকো দিয়ে কোনমতে জোড়াতালি মাধ্যমে পারাপার হতে হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়। আমাদের দাবি কর্তৃপক্ষ যতো দ্রুত সম্ভব এই সেতুটি নির্মাণ করে এলাকাবাসীকে এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করুক।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খালেক বলেন, সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এলাকাবাসী স্থানীয় এমপি মহোদয়সহ জনপ্রতিনিধিদের কাছে সেতুটি নির্মাণ করার জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কি কারণে যে এই জনবহুল রাস্তার উপর ভেঙ্গে যাওয়া সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে না বুঝতে পারছি না। বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করবেন। গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা বান্তবায়ন করতে হলে দ্রুত সেতুটির নির্মাণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইসলামপুর, মালাইগাঁও, কুমিল্লা হাটি, খাসপাড়া, লম্বা হাটি, কাঁঠাল বাড়ি, ভৈরব হাটি, দূর্লভপুর, বনগাঁও, হাসাউর, চিনাউরাসহ ১৫টি গ্রামের প্রায় ৭হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন এই ভাঙ্গা সেতু দিয়ে।

স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি মেনে নিয়ে জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুখশেদ আলী বলেন, এই সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে এখানকার মানুষ চরম দুর্ভোগে আছে। অনেক আগেই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমরা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে প্রস্তাবনা দিয়েছি। ইউনিয়নবাসী দীর্ঘদিন যাবত এই সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে চরম দুর্ভোগে আছে।

রংগারচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই বলেন, সেতুটি জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মধ্যে পড়ে। তবে এই সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন ও রংগারচর ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে আছে। সেতুটি দ্রুত নির্মাণের জন্য আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের সাথে কথা বলবো।

এবিষয়ে সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আবুল হোসেন বলেন, সেতুটির কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। এই সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে দীর্ঘদিন যাবত পথচারিদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

এবিষয়ে সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাৎ হোসেন ভূঞা (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, আমি কয়েকদিন যাবত সদর উপজেলার প্রকল্প অফিসের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বে আছি, সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

শেয়ার করুন




 

 

 

 

© 2017-2020 All Rights Reserved Amadersunamganj.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!