শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০২:১৬ অপরাহ্ন

সবজি চাষে স্বাবলম্বী তাহিরপুরের জজ মিয়া: বদলে গেল তার জীবন যাত্রার মান

সবজি চাষে স্বাবলম্বী তাহিরপুরের জজ মিয়া: বদলে গেল তার জীবন যাত্রার মান

সোহেল আহমদ সাজু, তাহিরপুর:: জেলার ভাটির জনপদ গুলোতে ইরি, বোরো ধান উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত হলেও এখানকার কৃষকরা শাক-সবজির জন্য জেলার দক্ষিনাঞ্চলের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু সম্প্রতিকালে বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি চাষে আশানুরুপ ফল পাওয়ায় তারা সারা বছরেই পতিত জমিতে অধিক হারে ফসল চাষের পর শাক-সবজি উৎপাদনের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে জানান তাহিরপুর উপজেলার একজন সফল চাষী মোঃ জজ মিয়া, তিনি বাদাঘাট ইউনিয়নের কামড়াবন্দ গ্রামের আশু মিয়া ছেলে।

নিজের জমি নেই। তাই বলে থেমে যান নি তিনি। কঠোর পরিশ্রম আর নিজের ভাগ্য পরির্বতনের চেষ্টায় বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানার ভিতরে পতিত জমি লিজ নিয়ে সাড়ে তিন কিয়ারের উপড়ে(১ একর ২০শতাংশ)জমিতে গত ৯বছর ধরে কোন কৃষি প্রশিক্ষণ ছাড়াই জমিতে ফলাচ্ছেন শিম, মুলা, লাউ, কচু, মরিচ, বড়বটি সহ বিভিন্ন সবজি চাষ। এসব চাষ করে তিনি ২ছেলে ৪মেয়ে নিয়ে বেশ সুখেই আছেন। ছেলে, মেয়েদের স্কুলের লেখাপড়া সবেই চলছে এই সবজি বিক্রির টাকায়। আর এসব ফলাতে প্রতি বছর প্রায় লাখ টাকা খরচ হয় আর নিজেই পানি, নিরানীসহ সবকিছুই একাই করেন। সাথে মাঝে মাঝে ছেলে,মেয়ে আর বউ এসে সহযোগীতার হাত বাড়ায়। এখান উৎপাদিত সবজি বছরে ২থেকে আড়াই লাখ বিক্রি করেন প্রতি বছর। তারপথ অনুশরণ করে উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের আমতৈল, পুরানঘাট, ব্রাক্ষনগাও, পৈলনপুর, বারহাল, শিমুলতলা ও বাদাঘাট ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া,কামরাবন্দ,নাগরপুরসহ অনেক গ্রামের জীবন সংগ্রামী মানুষ,নিম্ন আয়ের পরিবার ও বেকার যুবক জীবন ও জীবিকার তাগিদে নিষ্ফলা জমিকে ব্যক্তি উদ্যোগে বারো মাস সবজি চাষাবাদের জমিতে রুপান্তরিত সিম,ফুল কপি,টমেটো,করলা,বটবটি,শসা,মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষাবাদ করে ও বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছে।

ব্যাপক হারে সবজি চাষের কারনে সবজি পল্লী হিসাবে সবার কাছে পরিচিত পেয়েছে। কৃষক জজ মিয়া জানায়-উপজেলার অন্য স্থানের চেয়ে এই অবস্থান অনেকটা উঁচু হওয়ায় ও কম খরচে শাক-সবজি চাষাবাদ করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করা যায়। অনেকটাই কৃষি বিভাগের সহযোগীতা ছাড়াই বানিজিক্য ভিত্তিতে এখানে লাল শাক, মুলা, লাউ, করলা, বেগুন, শসা, সিম, বরবটি, বাধাকপি, ফুলকপি, আলু, পুঁইশাক, কুমড়া, তরমুজসহ বিভিন্ন প্রজাতির শীত কালীন ও গ্রীষ্ম কালীন সবজি চাষ করছি। ধান উৎপাদনের চেয়ে সবজি চাষ সহজ ও ব্যয় কম। বিভিন্ন প্রজাতির শীত কালীন ও গ্রীষ্ম কালীন সবজি বিক্রি করে লাভবান হয়েছি।

তিনি আরো জানান,যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় জাতীয় বাজার দর সম্পর্কে অবহিত হতে পারচ্ছেন না এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে শাক-সবজি পৌছানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গুটি কয়েক পাইকারদের দামের মধ্যেই তারা সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে। উপজেলা শাক-সবজি উৎপাদনের পরিমান কয়েকগুন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান উদ-দোল্লা বলেন,উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১১শত হেক্টর লক্ষ্য মাত্র হলেও ১৫শত হেক্টর চাষ হয়েছে। উপজেলার বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নে এবার বেশী সবজি চাষ হয়েছে। আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন মাঠে গিয়ে কৃষকদের সব সময় পাশে থেকে দেখাশুনা করছে। আমরা কৃষকদের বিশ মুক্ত সবজি চাষে উদ্ভুদ্ধ করাসহ কি ভাবে সবজি চাষে করতে হবে ও পরিচর্যা করে লাভবান হবে সে সম্পকে পরামর্শ দিয়েছি। কম খরছে সবজি চাষে বেশী লাভবান হওয়ায় সবজি চাষে কৃষকরা ঝুঁকছে।

শেয়ার করুন




 

 

 

 

© 2017-2019 All Rights Reserved Amadersunamganj.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!