শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩৯ অপরাহ্ন

নেতৃত্ব গ্রহণে প্রস্তুত ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার

নেতৃত্ব গ্রহণে প্রস্তুত ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার

ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার একজন রাজনীতিক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক। তিনি বর্তমানে আহ্বায়ক বঙ্গবন্ধু পরিষদ-সুনামগঞ্জ জেলা এবং সহযোগী অধ্যাপক ও গবেষণা পরিচালক, এইউবি। আওয়ামী লীগের মূলধারার রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততা ও আগ্রহ সম্পর্কিত সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন আমাদের সুনামগঞ্জ’র  সম্পাদক জাকির হোসেন রাজু। জেলা আওয়ামীলীগ, স্থানীয় সাংসদ ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ চাইলে ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব নিতে প্রস্তুত ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার।

আমাদের সুনামগঞ্জ: আপনি গত জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে সুনামগঞ্জ-১ আসনের জন্য মনোনয়ন চেয়েছিলেন। আপনি উচ্চ শিক্ষিত এবং সাংসদ বা মন্ত্রী হওয়ার জন্য অত্যন্ত যোগ্য, কোন সন্দেহ নেই; কিন্তু দলের জন্য আপনার কতটুকু অবদান ছিল যার ভিত্তিতে আপনি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন?

ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার: দেখুন আমার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের মহদীপুর গ্রামে তালুকদার বাড়ি, আর সুনামগঞ্জ-১ (আসন ২২৪) গঠিত ধর্মপাশা-তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলা নিয়ে। আমি আমার নিজ ভূমি থেকেই মনোনয়ন চেয়েছিলাম। আর শাসন ব্যবস্থা, উন্নয়ন ও রাজনীতি বিষয়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই ও গবেষণা করি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে দলের জন্য আমার অবদান কি যার ভিত্তিতে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম? আমি সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী হিসাবে ১৯৯৫-৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে জননেত্রীর রাজপথের আন্দোলনে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিলাম। অধিকন্ত আমি ডেইলি স্টার, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, ঢাকা ট্রিবিউন, কালের কণ্ঠ, সমকাল ও ইত্তেফাকে বঙ্গবন্ধুর নীতি-আদর্শ, রাজনৈতিক ও উন্নয়ন দর্শন প্রচারের জন্য, এবং জননেত্রীর ত্যাগ-তিতীক্ষা, অর্জন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সাফল্যের গল্পগুলিকে বস্তুনিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ও যৌক্তিক বিশ্লেষণ দিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে মতামত প্রবন্ধ রচনা করে প্রকাশের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট অবদান রেখে আসছি। এছাড়া বঙ্গবন্ধু পরিষদ, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক হিসেবে আমি স্থানীয় তরুণ ও যুব সমাজকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিন্তা-চেতনা, জীবনাদর্শ, ত্যাগ-তিতীক্ষা, প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক ও উন্নয়ন দর্শন এবং বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ সম্পর্কে গভীর আবেগ-অনুভূতি দিয়ে পরিচয় করাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর সত্যিকারের নীতি-আদর্শ অনুসরণ করে সুখী সমৃদ্ধ দেশ গঠনে এবং মাদক-দুর্নীতি-সন্ত্রাসমুক্ত ও শোষণহীন সমাজ গঠনে আত্ন নিযোগের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে আসতে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করছি ।

আমাদের সুনামগঞ্জ: একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আপনার ভূমিকা কি ছিল?

ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার: এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা, ইত:মধ্যে আপনিই বলেছেন যে সুনামগঞ্জ -১ এর জন্য বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে আমি একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। চার্ বৎসর মাঠে নিবিড়ভাবে কাজ করেছি কিন্তু মনোনয়ন পাইনি। কিন্তু তাতে দল ও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থার ঘাটতি ঘটেনি। দলীয় সভাপতির সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে দলীয় মনোনীত প্রার্থীর সাথে নৌকার বিজয়ের পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে কাজ করেছি।

আমাদের সুনামগঞ্জ: মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে আপনার পারিবারিক অবস্থান কি ছিল একটু জানতে পারি?

ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার: দেখুন আগেই বলেছি যে আমার গ্রামের বাড়ি – তালুকদার বাড়ি, মহদীপুর, ধর্মপাশা-সুনামগঞ্জ। এই বাড়িতেই দীর্ঘ নয়-মাসব্যাপী মহান মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ক্যাম্প ছিল। মোহনগঞ্জ-নেত্রকোনা এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধারা এখানে ছিলেন। আমার প্রয়াত বড় চাচা আবদুল ওহাব তালুকদার (সোনা মিয়া) মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন স্থানীয় সংগঠক ছিলেন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। আমার আরেক চাচা আবদুল খালেক তালুকদার, যিনি এখন একজন প্রবীণ অ্যাডভোকেট এবং আমার পিতা মোঃ নুরুল ইসলাম তালুকদার, যিনি একজন সাধারণ কৃষক, সমাজসেবী ও অত্যন্ত সৎ ব্যক্তিত্বের অধিকারী – তারা মহান মুক্তিযোদ্ধাদের রসদ (পানি ও খাদ্য) সরবরাহ করেছেন।

আমাদের সুনামগঞ্জ: আপনার পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পর্কে একটু জানতে পারি?

ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার: আমার মা – দিলারা ইসলাম তালুকদার, একজন গৃহিনী ও প্রতিভাময়ী ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্ট বাউল সাধক উকিল মুন্সির নাতনী; আমার প্রয়াত দাদা – পঞ্চায়েত মক্রম আলী তালুকদার, অত্যন্ত দানবীর, সমাজসেবী ও মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন; ভাই – ব্যবসায়ী ও ধর্মপাশা উপজেলা যুবলীগের সম্মানিত সদস্য; ভাতিজা – ব্যবসায়ী ও ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সম্মানিত সভাপতি; ভাগ্নে – নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সম্মানিত সভাপতি ও অ্যাডভোকেট; আরেক ভাগ্নে – ঢাকা মহানগর(উত্তর) ছাত্রলীগের সম্মানিত সহ-সভাপতি; আরেক ভাগ্নে- নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং নৌকা মার্কায় পুনরায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করছেন ; এবং একজন ব্রাদার-ইন-ল – পার্শ্ববর্তী মোহনগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সম্মানিত সভাপতি।

আমাদের সুনামগঞ্জ: আপনি যে দল করেন সেই দল – বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জেলা বা উপজেলা শাখায় বা কেন্দ্রে নেতৃত্ব নিতে কতটুকু প্রস্তুত?

ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার: জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন ও পূর্ণ কমিটি গঠন সময় সাপেক্ষ ব্যাপার, সেখানে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান গত (অৰ্থাৎ বর্তমান) কমিটিতেই থাকার কথা ছিল। স্থানীয় গরুপিং, প্রতিহিংসার রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ার কারণে সেটি হয়ে উঠেনি। আগামী জেলা কমিটিতে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান রাখতে নেতৃবৃন্দ সম্মত হবেন বলে প্রত্যাশা রাখি। এখন শীঘ্রই (অক্টোবর-নভেম্বরে) ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন হতে পারে। জেলা আওয়ামীলীগ, স্থানীয় সাংসদ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ চাইলে ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব নিতে আমি প্রস্তুত। এখানে (ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নে) আমার বসত-বাড়ি। এমনিতেই এই কমিউনিটি ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত এবং নিয়মিতভাবে যাতায়াত করি। এর বাইরে দলের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা চাইলে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হিসেবেও রাখতে পারেন।

শেয়ার করুন




 

 

 

 

© 2017-2020 All Rights Reserved Amadersunamganj.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!