শুক্রবার, ১০ Jul ২০২০, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন

আধিপত্যবাদ নিপাত যাক: মুক্তি ও স্বাধীন হোক কাশ্মীরের নির্যাতিত জনগণ

আধিপত্যবাদ নিপাত যাক: মুক্তি ও স্বাধীন হোক কাশ্মীরের নির্যাতিত জনগণ

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।কিছুদিন আগেই শ্রীলঙ্কায় সংগঠিত  ভয়াবহ জঙ্গি হামলায়  অনেক ধর্মপ্রান মানুষ প্রান হারিয়েছেন।যা ছিল খুবই করুন ও হৃদয়বিদারক।কাশ্মীর  সংকট অনেকটা পুরনো সম্প্রতি ভারত সরকার তথা সাম্প্রদায়িক দল বিজেপির  আগ্রাসনে তা আবারো উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।  পৃথিবী স্বর্গভূমি খ্যাত কাশ্মীর। আর এসএসের প্রভাবিত রাজনৈতিক দল বিজেপি উপমহাদেশেের রাজনীতিতে উগ্রতা আর সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প ছড়াচ্ছে।  ভারত পাকিস্তানের দ্বন্দ্বের কারনে কাশ্মীর জলন্ত আগ্নেয়গিরি হয়ে আছে। কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে অস্ত্রখাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছে পাকিস্তান আর ভারত।

দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরের জনগণ স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে আসছে।কিন্তু  সাম্রাজ্যবাদী আর আধিপত্যবাদীদের আগ্রাসন তা পেরে উঠছে না।কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ভিত্তিক  সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গুলোও এর জন্য দায়ী।ভারত পাকিস্তানে ঘৃন্য রাজনীতির শিকার কাশ্মীরের সাধারণ জনগন।

কয়েকদিন হল ভারতের বিজেপি সরকার সংসদে কোন রকম আলোচনা ছাড়াই সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে দেয়। কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার।সেখানে কেন্দ্রের শাসন জারি করে। বর্তমানে কাস্মীরে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।সাবেক দুই  মূখ্যমন্ত্রী সহ

প্রায় ৪ শতাধিক সাধারন মানুষকে গ্রেফতার করেছে।

ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৪৭ সালে যখন পাকিস্তান ও ভারত নামে দুই রাষ্ট্রের জন্ম হয় তখন মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ হবে বলেই ধরে নিয়েছিলেন অনেকে।

কিন্তু ওই অঞ্চলের তৎকালীন হিন্দু মহারাজা হরি সিং পাকিস্তান বা ভারত কারো সঙ্গেই যুক্ত হতে চাননি। তিনি প্রথমে জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গড়তে চেয়েছিলেন।

কিন্তু পাকিস্তানের আদিবাসীগোষ্ঠী আক্রমণ করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে আশঙ্কায় তিনি ভারতের কাছে তাদের প্রতিরোধে সাহায্য চান এবং বিনিময়ে বিশেষ সুবিধার শর্তে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে রাজি হন।

যার জেরে ১৯৪৯ সালে ভারতীয় সংবিধানে নতুন একটি অনুচ্ছেদ যুক্ত হয়, যেটি ‘আর্টিকেল ৩৭০’ নামে পরিচিত। এ ধারা অনুযায়ীই জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অংশ হলেও রাজ্যটি বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা পায়।

রাজ্যটির নিজস্ব সংবিধান এবং নিজস্ব একটি পাতাকা হয়। এছাড়া পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ ছাড়া বাকি সব বিষয়ে রাজ্য সরকার স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার পায়। এমনকী, কেন্দ্র সরকার বা ভারতীয় পার্লামেন্টের রাজ্যে সরকারের সহমত ছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরে কোনো আইন প্রণয়ন করার অধিকারও ছিল না।

পরে অনুচ্ছেদ ৩৭০ এর সঙ্গে ৩৫এ নামে নতুন একটি ধারা যোগ করা হয়। এই ধারা অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দারা বিশেষ সুবিধার অধিকারী হন। যেমন: সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া অন্য রাজ্যের কেউ সেখানে স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারতেন না। কিনতে হলে অন্তত ১০ বছর জম্মু-কাশ্মীরে থাকতে হত।

স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরে অন্য রাজ্যের কেউ সেখানে সরকারি চাকরির আবেদন করতে পারতেন না। দিতে পারতেন না ভোটও।

কে স্থায়ী বাসিন্দা এবং কে নয়, তা নির্ধারণ করার অধিকার ছিল রাজ্যের বিধানসভার। ৩৫এ ধারা অনুযায়ী, রাজ্য অর্থাৎ জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভাই ঠিক করতে পারত, রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা কারা এবং তাদের বিশেষ অধিকার কী ধরনের হবে।

জম্মু ও কাশ্মীরের কোনও নারী রাজ্যের বাইরের কাউকে বিয়ে করলে তিনি সেখানকার সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হতেন। অর্থাৎ, তার সম্পত্তিতে তার আর কোনো অধিকার থাকত না। এমনকি, তার উত্তরাধিকারীরাও ওই সম্পত্তির মালিকানা বা অধিকার পেতেন না।

ভারতের একমাত্র মুসলমান অধ্যুষিত রাজ্য হিসেবে সাংবিধানিকভাবে সেখানকার জনগণের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রক্ষায় এটি করা হয়েছিল। ৩৭০ বতিল করায় এখন সেখানকার জনগণ এ সব সুবিধাই হারাবে।

এ ব্যাপারে পাকিস্তান তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। বিশ্ব নেতৃত্ববৃন্দ এর কাশ্মীর নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। কাশ্মীরে ভারতের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশেও প্রতিবাদ হচ্ছে।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। স্বাধীনতাকামী কাস্মীরি বীর জনতাকে তারা স্বাগত জানিয়েছে। ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জ্ঞাপন করেছে।সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিবেকবান সকল মানুষ  প্রতিবাদ জানাচ্ছে।  আবার কেউ কেউ তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছেন । সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে বরাবরই বাংলাদেশের শান্তি কামী মানুষ প্রতিবাদ করেছে।ভিয়েতনামে মার্কিন  আগ্রাসনের  প্রতিবাদে বাংলাদেশে মিছিল হয়ে ছিল। যেকোন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শান্তিকামী মানুষ জেগে ওঠবে এটাই স্বাভাবিক।  কাশ্মীর সমস্যা সেই ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে। যা এখনও সমাধান হয়নি। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীর রাজ্যটি পাকিস্তানের ভাগে পড়বে বলেই জিন্নাহ প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু তা হয়নি। বিষয়টি তখন থেকেই  অদ্যাবধি পর্যন্ত অমীমাংসিত থেকে যায় । সে সময়ে কাশ্মীরের ৮০ ভাগ লোক মুসলমান হওয়ায় নীতিগতভাবে কাশ্মীর পাকিস্তানের প্রাপ্য হওয়া সত্ত্বেও লর্ড মাউন্টব্যাটেন ও নেহরুের কারনে ভারতে চলে যায়। রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে নেহরু চেয়েছিলেন কাশ্মীরকে ভারতের ভেতর রাখতে। তাছাড়া রাজ্যটিতে তার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার কারণও ছিল। জিন্নাহ ও নেহরু উভয়েই ব্যর্থ হলে কাশ্মীর কৌশলগতভাবে ১৫ আগস্ট স্বাধীন হয়ে গেল এবং কাশ্মীরের হিন্দু রাজা অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় সেখানে অব্যাহতভাবে গোলমাল চলতে থাকল। ফলে কাশ্মীর  ৭৩ দিন স্বাধীন ছিল। রাজা হরি সিংয়ের অদূরদর্শীতার জন্য ১৯৪৭ সালের ২২ অক্টোবর পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ থেকে ৩০০০ পাঠান উপজাতি ঝিলম নদী পেরিয়ে কাশ্মীরে ঢুকে পড়ল। পাকিস্তান যুক্তি দেখাল কাশ্মীরি জনগণ অত্যাচারী রাজা হরি সিংয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে পাঠান উপজাতিদের ডেকে নিয়েছে। এ অবস্থায় পাঠান উপজাতিরা শ্রীনগরের কাছে এসে পৌঁছলে হরি সিং আতঙ্কিত হয়ে দিল্লির কাছে সামরিক সাহায্যের প্রার্থনা জানান এবং ২৪ অক্টোবর পরিবার ও সঙ্গীদের নিয়ে শ্রীনগর থেকে পালিয়ে শীতকালীন রাজপ্রাসাদে গিয়ে ওঠেন। এ ঘটনাকে পাকিস্তানি আক্রমণ আখ্যা দিয়ে নেহরু ও মাউন্টব্যাটেন কাশ্মীরে ভারতীয় সৈন্য পাঠালে ৩৫০০০ ভারতীয় সৈন্য এসে সেখানকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। কিন্তু হরি সিংয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো চুক্তি না থাকায় বিরোধ লেগেই থাকল। হরি সিং আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসনের দাবি ত্যাগ করলেন না। ভারত কাশ্মীরে সমাসীন হওয়ার পর নেহরুর বন্ধু শেখ আবদুল্লাহকে রাজ্যের প্রশাসনিক সরকারের প্রধান হিসেবে বসিয়ে দেয়া হলে হরি সিং কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ পরিত্যাগ করে কাশ্মীর থেকে নির্বাসিত হলেন। অতঃপর ১৯৪৯ সালে শেখ আবদুল্লাহ কাশ্মীর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তার দল ন্যাশনাল কংগ্রেসের মাধ্যমে কাশ্মীর শাসন করতে থাকলেন।

হরি সিং ছিলেন একজন হিন্দু শাসক, যিনি মুসলিম অধ্যুষিত একটি রাজ্য শাসন করে আসছিলেন। তার সিদ্ধান্তের সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের ইচ্ছার কোনো মিল ছিল না। ফলে সহজেই কাশ্মীর তার হাতছাড়া হয়ে যায়। ঘটনার এ পর্যায়ে নেহরু ও মাউন্টব্যাটেন একমত হলেন যে, ‘কাশ্মীরের জনগণের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য জনগণের গনভোট দেয়া দিতে হবে।’ তদনুযায়ী ১৯৪৯ সালের ২ নভেম্বর নেহরু অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে বেতার ভাষণে বলেছিলেন, ‘যখনই শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে, তখনই আমরা গনভোট দিতে প্রস্তুত।’ নেহরু তার এই সিদ্ধান্ত একটি টেলিগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানকেও জানিয়ে বললেন, ‘আমরা ইউনাইটেড নেশন্সের মাধ্যমে যে কোনো গনভোট করাতে সম্মত আছি।’ কিন্তু শান্তি এলো না। কাশ্মীরে লড়াই শুরু হয়ে গেল এবং ইউনাইটেড নেশন্সের যুদ্ধবিরতি বলবৎ না হওয়া পর্যন্ত কাশ্মীরে লড়াই চলতেই থাকল। অবশেষে যুদ্ধবিরতির ফলস্বরূপ কাশ্মীরের এক-তৃতীয়াংশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হল, আর তার নাম দেয়া হল ‘আজাদ কাশ্মীর’, ভারতের কাছে যা ‘অধিকৃত কাশ্মীর’। কাশ্মীরের দুই-তৃতীয়াংশ থেকে গেল ভারতের নিয়ন্ত্রণে যা জম্মু ও কাশ্মীর নামে পরিচিত। এ ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত নেহরু প্রতিশ্র“ত রেফারেন্ডাম কখনোই অনুষ্ঠিত হয়নি, আর হবে বলেও মনে হয় না। ফলে আজও সেখানে শোকাবহ ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটছে না। কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের লড়াই, ঝগড়া, শত্র“তা এখনও চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, নেহরু কাশ্মীরকে কখনও হাতছাড়া করতে চাননি, কারণ নেহরুর পরিবারের জন্য কাশ্মীর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারটির উৎস্য কাশ্মীর। কাশ্মীর ছিল তাদের প্রথম ও শেষ আবেগ। যদিও তাদের পূর্বপুরুষরা কয়েক পুরুষ আগে কাশ্মীর থেকে সমতল ভূমিতে আসেন। তাই সে অর্থে নেহরু কিংবা ইন্দিরা কেউই বলতে পারেন না তারা কাশ্মীরি। তারপরও দেশভাগের ফলে নেহরু আর ইন্দিরার জীবনে কাশ্মীর একটি স্বতন্ত্র অনুষঙ্গ হয়ে ওঠায় ১৯৪৭-এর পর কাশ্মীরের কষ্ট, বিপদ ও রাজনৈতিক দুঃশাসনের ক্ষত সারাতে অস্বীকার করা হয়। ফলে কাশ্মীর একটা জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মতোই রয়ে যায়।

কাশ্মীরের জনগণ স্বাধীনতা চায়। সেখানকার তরুন, যুবকরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে। এই সংগ্রাম করতে গিয়ে তাদের জীবন বিপর্যস্ত। অনেকেই প্রান দিয়েছেন আবার অনেকেই পঙ্গুত্ব বরন করেছেন।  তবুও তারা স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখছেন। বর্তমানে কাস্মীরে ভারতের ১০ হাজার সেনা সেখানে অবস্থান করছে। সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সাবেক মূখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি,ওমর আব্দুল্লাহ কে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্বেগ উৎকন্ঠায় কাস্মীরের জনগন। ভারতেও বামপন্থিরা বিজেপির সিধান্তের বিরুদ্ধে মিছিল করেছেন। কংগ্রেস নেতারা বলছেন এই সিধান্ত ভারতের অখন্ডতাকে হুমকির মধ্যে ফেলবে । প্রখ্যাত লেখক অরুন্ধতী রায় অনেক  আগে থেকেই কাস্মীরের স্বাধীনতা দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। সেখানে আসলে ভারতীয় বাহিনীর আগ্রাসন চলছে।তিনি ২০১৬ সালে বলেন প্রকৃত পক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে কাশ্মিরবাসীকে।কাশ্মির সমস্যার একমাত্র সমাধান স্বাধীনতা।

সকল শান্তিকামী মানুষ চায় কাস্মীরে রক্তপাত বন্ধ হোক।

বিজেপি রাজনীতি হচ্ছে ধর্মকে কেন্দ্র করে। আসামে ৪০ লাখ মানুষের ভাগ্যে বড় বির্পযয় অপেক্ষা করছে ঘ। তা এখন সহজেই অনুমেয়। নাগরিক তালিকা করার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত মানুষদের সেখানে অবৈধ ঘোষনা করা হয়েছে। কলকাতার মূখ্য মন্ত্রী মমতা তার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। যদি শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয় তাহলে  ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে পড়বে বাংলাদেশ। এমনিতেই ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা নিয়ে অনেক বিপাকে রয়েছে বাংলাদেশ। কাস্মীর নিয়ে পাক-ভারত দ্বন্দ্ব গভীর ভাবে পর্যবেক্ষন করছে বাংলাদেশ সরকার।প্রচন্ডভাবে ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ হচ্ছে।

পররাষ্ট্র নীতিতে রয়েছে যে বিশ্বের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রাম রত সকল জাতির পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন থাকবে।কাস্মীর নিয়ে উত্তেজনায় বাংলাদেশে কি প্রভাব পড়তে পারে তা বিশেষজ্ঞরা মতামত ব্যক্ত করেছেন। কাশ্মীরে বিদ্যমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসাইন ঢাকা ট্রিবিউনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই অঞ্চলের বাসিন্দা হিসেবে বিষয়টি আমাদের জন্যও যথেষ্ট চিন্তার। দুটি দেশই পরমাণু শক্তিসম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য আরও দুঃশ্চিন্তার।

 

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ -এর প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব) আ.ন.ম মুনিরুজ্জামান বলেন, “কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখনও দেশ দু’টির মধ্যে বিরাজমান। স্থানীয়ভাবে এর সমাধান না করা গেলে বৃহৎ পরিসরে এর প্রভাব পড়বে।”

দক্ষিণ এশিয়া অধিভুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় চলমান এই উত্তেজনা আমাদের জন্যও দুশ্চিন্তার। নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে আমাদের দেশের ওপরও এর প্রভাব পড়বে।”

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলা এই সমস্যার সমাধানে মনোযোগী হওয়া উচিত বলে তিনি পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশ নিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য উদ্বেগজনক।

কাস্মীর নিয়ে সংঘাত বেড়েই চলছে।বিশ্ব রাজনীতির কালো ছায়ায় প্রান দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের।  জীবন হয়ে গেছে সেখানে বিভীষিকাময়। হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় সরকারের আগ্রাসনে কাস্মীরের মানুষ হারিয়েছে তাদের মৌলিক অধিকার।  ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে মানবতা।

জাতিসংঘ এই আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে। আশ্চর্যজনক ভাবে কয়েকজন ছাড়া  মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দ এখনো জোরালো প্রতিবাদ জানায় নি।

কাস্মীরীদের সামনে এখন পথ খোলা একটাই স্বাধীনতা।কাস্মীরের জনগনের অধিকার হরনের প্রতিবাদে জেগে ওঠবে বিশ্ব বিবেক। স্বাধীন ও মুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠুক কাশ্মীরা আগামীর প্রজন্ম।তাঁরাই ঠিক করুক তাদের ভবিষ্যত। তাদের মতামতের ভিত্তিতেই সমাধান  হোক  কাশ্মীরের সংকট।

ধর্ম বর্ন পরিচয়ের আগে তারা মানুষ।তাই একজন শান্তিকামী মানুষ হিসেবে চাওয়া থাকবে ভয়ংকর রক্তপাত থেকে কাস্মীরের জনগনে মুক্তি ও স্বাধীনতা।মধ্যযুগে কবি বলে গিয়েছেন সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার  উপরে কিছু নাই।

শুধু কাশ্মীর  নয় বিশ্বের সকল নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের মুক্তি হোক এটা মনেপ্রাণে কামনা করি। বর্ন ধর্ম নির্বিশেষে সবাই যার যার অধিকার নিয়ে মুক্ত ও স্বাধীন ভাবে

শান্তিতে বেঁচে থাকবে এটাই হোক সকল বিশ্ববিবেকের চাওয়া ।আগামীর বিশ্ব হোক যুদ্ধ মুক্ত শান্তি ও সম্প্রীতির  সুবাতাস ছড়িয়ে পড়ুক পৃথিবী জুড়ে।

 

লেখক: জাহিদুল হক, সাবেক শিক্ষার্থী: সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুন




 

 

 

 

© 2017-2020 All Rights Reserved Amadersunamganj.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!