শুক্রবার, ১০ Jul ২০২০, ০৪:১৯ অপরাহ্ন

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আজ

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আজ

স্টাফ রিপোর্টার
আজ বুধবার মহান ২১ ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ভাষা শহীদদের স্মরণে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালিত হবে। মাতৃভাষা আন্দোলনের ৬৬ বছর পূর্ণ হবে আজ। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য জেলা প্রশাসন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। এরমধ্যে রয়েছেÑ দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন, সকাল ৭টায় সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণ থেকে একুশের   প্রভাত ফেরি, সাড়ে ৭টায় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সকাল ১০টায় সুন্দর হস্তাক্ষর ও শুদ্ধ পঠন প্রতিযোগিতা, বেলা ১১টায় আবৃত্তি, সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতায় কৃতীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা ৬টায় আলোচনা সভা।
২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে কুইজ প্রতিযোগিতা এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন প্রতিযোগিতা, বিকাল ৩টায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা ৬টায় সমাপনী, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এদিকে মঙ্গলবার ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে সকালে অনুষ্ঠিত নৃত্য, বিকাল ৩টায় তাহিরপুর, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা ৬টায় আলোচনা সভা, রাত ৮টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
বাঙালি জাতির জন্য এই দিবসটি হচ্ছে চরম শোক ও বেদনার, অনদিকে মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত। যে কোন জাতির জন্য সবচেয়ে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার হচ্ছে মৃত্যুর উত্তরাধিকার-মরতে জানা ও মরতে পারার উত্তরাধিকার। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদরা জাতিকে সে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন। রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের এদিনে ‘বাংলাকে’ বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠির চোখ-রাঙ্গানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শংকিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
শহীদদের এই আত্মদান নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সরদার ফজলুল করিম তার ‘বায়ান্নর আগে’ প্রবন্ধে লিখেছেন ‘বরকত-সালামকে আমরা ভালোবাসি। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা বরকত-সালাম আমাদের ভালোবাসে। ওরা আমাদের ভালোবাসে বলেই ওদের জীবন দিয়ে আমাদের জীবন রক্ষা করেছে। ওরা আমাদের জীবনে অমৃতরসের স্পর্শ দিয়ে গেছে। সে রসে আমরা জনে জনে, প্রতিজনে এবং সমগ্রজনে সিক্ত।’ এদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে আমরা অমরতা পেয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বলতে পারি দস্যুকে, বর্বরকে এবং দাম্ভিককে : তোমরা আর আমাদের মারতে পারবে না। কেননা, বরকত-সালাম রক্তের সমুদ্র মন্থন করে আমাদের জীবনে অমরতার স্পর্শ দিয়ে গেছেন।’
জাতীয় ছুটির দিন ২১ ফেব্রুয়ারি। এ দিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এ ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

শেয়ার করুন




 

 

 

 

© 2017-2020 All Rights Reserved Amadersunamganj.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!